প্রকাশিত:
৮ জানুয়ারী, ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের ইউটাহ অঙ্গরাজ্যের রাজধানী সল্টলেক সিটিতে একটি গির্জার বাইরে পার্কিং লটে ঝগড়ার এক পর্যায়ে নির্বিচার গুলিবর্ষণে অন্তত দুইজন নিহত হয়েছেন ৬ জন গুরুতর আহত হয়েছেন।পবিত্র উপাসনালয়ের প্রাঙ্গণে এমন রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে পুরো এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
বুধবার (৭ জানুয়ারি) সল্টলেক সিটির ‘চার্চ অফ জেসাস ক্রাইস্ট অফ ল্যাটার-ডে সেন্টস’ বা মরমো গির্জায় একটি অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া বা স্মরণসভা চলার সময় বাইরে এই রক্তক্ষয়ী ঘটনাটি ঘটে।
স্থানীয় সময় বুধবার (৭ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় সল্টলেক সিটির ‘নর্থ রেডউড রোড’ এলাকায় অবস্থিত একটি গির্জার সামনে এই ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, গির্জার ভেতরে যখন পরলোকগত এক ব্যক্তির জন্য প্রার্থনা সভা চলছিল, তখন বাইরে পার্কিং লটে একদল লোকের মধ্যে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। মুহূর্তের মধ্যেই তা চরম সহিংসতায় রূপ নেয় এবং একাধিক বন্দুকধারী গুলিবর্ষণ শুরু করে।
গুলিবর্ষণে ঘটনাস্থলেই একজন মারা যান এবং হাসপাতালে নেওয়ার পথে আরও একজনের মৃত্যু হয়।৬ জন গুলিবিদ্ধ অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন, যাদের মধ্যে ৩ জনের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক।গুলির শব্দে গির্জার ভেতরে থাকা কয়েকশ মানুষ জীবন বাঁচাতে হুড়োহুড়ি শুরু করেন, এতেও বেশ কয়েকজন সামান্য আঘাত পেয়েছেন।
পুলিশের মুখপাত্র গ্লেন মিলস সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, এই হামলায় অন্তত আটজন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। তাদের মধ্যে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে এবং তিনজনের অবস্থা বর্তমানে অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। আহত বাকিদের শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানা যায়নি।
সল্টলেক সিটির মেয়র এরিন মেন্ডেনহল এই ঘটনাকে ‘হৃদয়বিদারক’ বলে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, “একটি পরিবার যখন তাদের প্রিয়জনকে বিদায় দিচ্ছে, তখন এমন নৃশংসতা মেনে নেওয়া যায় না। আমাদের শহর থেকে বন্দুক সহিংসতা নির্মূল করতে আমরা কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছি।”
বন্দুক সহিংসতা আর্কাইভের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে নির্বিচার গুলিবর্ষণের ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে এবং গত এক বছরে দেশটিতে চার শতাধিক এমন গণ-গুলিবর্ষণের ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে। নতুন বছরের শুরুতেই এই মর্মান্তিক ঘটনাটি দেশটিতে বন্দুক নিয়ন্ত্রণ আইন এবং জননিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
২০২৬ সালের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রে এটি অন্যতম বড় বন্দুক হামলার ঘটনা। বিশেষ করে একটি ধর্মীয় উপাসনালয়ের পার্কিং লটে এমন সহিংসতা দেশটির শিথিল বন্দুক আইনের বিতর্ককে আবারও উসকে দিয়েছে।